আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): এক চিঠিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে আয়াতুল্লাহ খামেনি, জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ এবং ৩ হাজার ৪৬৮ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
পাশাপাশি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ধর্মীয় স্থাপনা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এগুলো স্পষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধ। তিনি এগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
কোরআন ও বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়ে অহংকার ও দম্ভের নিন্দা জানিয়ে তিনি হামলার বিষয়ে পোপের “নৈতিক, যৌক্তিক ও ন্যায্য অবস্থানের” প্রশংসা করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, চলমান আলোচনার মধ্যেই মিথ্যা অজুহাতে এই হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের “ইরানের ঐতিহাসিক সভ্যতা ধ্বংস” করার ঘোষিত ইচ্ছাকে তিনি সীমাহীন ক্ষমতার ভ্রান্ত ধারণা বলে অভিহিত করেন।
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় শতাব্দীর পর শতাব্দী শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে এসেছে এবং ইরান কখনোই তার প্রতিবেশীদের হুমকি দেয়নি। তবে পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা চালানো হওয়ায়, বৈধ আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইরান সেখানে আগ্রাসনকারীদের স্বার্থে আঘাত হানতে বাধ্য হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তাহীনতা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ হামলা ও নৌ অবরোধের ফল। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের “বিশ্বাসঘাতকতা” সত্ত্বেও ইরান কূটনীতি ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবৈধ দাবির বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন ও উচ্চ মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার অবস্থান।” পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানান।
শেষে পেজেশকিয়ান আবারও সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও নৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতি ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
Your Comment